Tuesday, February 12, 2019

একেলা বসন্ত

একেলা বসন্ত
                     আনন্দ মোহন


গড়িয়ে গেলো কতো বসন্ত
রক্তিম কুঞ্জে হেঁটে চলি তোমার প্রতীক্ষায়
বনজুঁই এর ঘ্রাণ ছিটিয়ে মনে
চেয়ে আছি আজো তোমার পথপানে।


মনমাঝারে দখিনা বাতাসে
উদাসী বিকেলে অজানা শিহরণে
নেশা নেশা ভালোবাসায়
তোমাকে আজো খুঁজে বেড়াই।।


                                                >>পহেলা ফাল্গুন বিলাপ<<

Thursday, October 19, 2017

"তুমি চাইলে "

"তুমি চাইলে"
---মোহন
তুমি চাইলে আমি,
আকাশ হয়ে যাবো।
রংধনুর সাত রং হয়ে
আকাশপটে চেয়ে যাবো।

তুমি চাইলে আমি,
ভরদুপুরের কোন ক্লান্ত পথিক হবো।
ক্লান্তিময় দেহ এলিয়ে দিতে
সবুজ গালিচা হবো।।


তুমি চাইলে আমি,
হবো কোন গোধুলি বেলার নীড়ে ফেরা পাখি।
হবো কোন বর্ষণমুখর সন্ধ্যার
বিজলী বাতি।

তুমি চাইলে আমি,
হবো চন্দ্রের মিটিমিটি আলো।
হবো ঊষাকালের
সূর্যের সোনালি আলো।।


||২রা কার্তিক  ১৪২৪||


💙💙💙💙💙💙








Wednesday, June 7, 2017

"চন্দ্র রজনী"

ন্দ্র রজনী
মোহন

বিশাল আকাশের বুকে,
এক ফালি চাঁদ রয়েছে জুড়ে।
একদা চন্দ্রাহত এই আমি,
আজ শুধুই উপভোগ করি।

ও আকাশ, তুমি কি পারবে
আমায় সান্তনা দিতে?
ও বাতাস, তুমি কি পারবে
এই আমায় শান্ত করতে?
ও চাঁদ, তুমি কি পারবে
এই আমার কলঙ্ক নিজের করে নিতে?

ধন্য তোমরা এই পৃথিবীর বুকে,
ধন্য আজ আমি তোমাদের সাথে পেয়ে,
থেকো তোমরা সব সময় আমার বন্ধু হয়ে।



||২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ||

Sunday, June 4, 2017

"গোধূলি "

গোধূলি
মোহন

এখানে গোধূলি নামে
পশ্চিমের আকাশে,
পাখিরা নীড়ে ফিরে
কলরব শব্দকরে।

রাখাল ছেলে বাড়ি ফিরে
বেণু বাজিয়ে, ধেনু নিয়ে
জীবনের টানে আজ
চলছে হাটুরে
হিসেবের খাতা নিয়ে।
এখানে রাত্রি নামায়
চাঁদ মামা হেসে।

Tuesday, May 30, 2017

"বৃষ্টির দিনে"

বৃষ্টির দিনে
-মোহন

বর্ষার দিনে বৃষ্টিতে,
আজ তোমায় মনে পড়ে
ঝুম বৃষ্টির শব্দে মনে পড়ে তোমায়,
বাদল ধারায় কার ইশারা;
মোর প্রাণে আজি দোলা লাগে।।

বৃষ্টি শেষে,জানালায় বসে
নিজেকে আজ একলা লাগে।
তোমা বিনে,একলা বসে
গগন পানে চেয়ে
আজ নিজেকে একলা লাগে।।




||১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ||

"ক্ষণিকের দেখা"

ক্ষণিকের দেখা
-মোহন

তারে দেখেছি এক বর্ষা বাদল দিনে,
সে হাঁটছিল একা আনমনে।
কী মায়াবী মুখ
হাওয়ায় উড়ছিল তার চুল
মমতা তার নয়ন জুড়ে
ছন্দ ছিল তার ধীরস্থির চলনে
কামিনীর সুবাসে বিরাজিছে আনন্দ।

প্রকৃতি মগ্ন তার নিজের আয়োজনে,
তার আগমন সময়ের প্রয়োজনে;
চারিদিকে ফুটছে কদমফুল,
বিচিত্রতায় পক্ষীরা আজ আকুল।
যেন ধন্য হল ধরা আজ তাকে ভালোবেসে,
মেঘের গর্জনে সে ছুটে চলল ঝড়ের বেগে।




||১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ||

উদাস দুপুর

"উদাস দুপুর"
-মোহন

গ্রীষ্মের এই দুপুরবেলায়
থাকতে চায় না মন বন্ধীরতায়
খুঁজে ফিরি উচ্ছলতা
ছোটবেলার সেই দুপুরবেলা।

মন পড়ে থাকে খেলার মাঠে
ফিরে খুঁজি স্মৃতি ইটের ফাঁকে
ছোট্টবেলার সেই আনন্দবেলা
হারিয়ে আজ আমি দিশেহারা।

স্মৃতিরা সব চোখের কোণে
জমায় অশ্রু ক্ষণে ক্ষণে।
ভাবুক মন আজ চায় ফিরে যেতে
ছোটবেলার স্মৃতির কাছে।


||১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ||


"মেঘলা দিন"

মেঘলা দিন
-মোহ

         এই মেঘলা দুপুরে
এই মন চায় আনমনে
       হারিয়ে যেতে কারো মুগ্ধতায়
ভালোবাসার অবলীলায়।

কদমের ওই পাঁপড়ীগুলোর
         সজীবতার সুন্দরতায়,
স্নিগ্ধতার স্পর্শে
          মলিন মন রাঙাতে।

তুমি কি আসবে আমার পথে,
         হারিয়ে যাব দিগন্তের শেষে।
চলনা আজ রাঙাবো তোমায়,
         আমার মনের সাজানো চিলেকোঠায়।


||১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ||


Tuesday, February 21, 2017

একুশ মানে

"একুশ মানে"
______আনন্দ মোহন

একুশ মানে
রক্ত লাল
একুশ মানে আশা,
একুশ মানে
রফিক-বরকত
আর আমার মায়ের প্রাণের ভাষা।

একুশ মানে
শহীদ সালাম ভাইয়ের
গর্জে ওঠা শ্লোগান,
একুশ মানে
স্মৃতি নিয়ে
খুঁজে পাওয়া প্রাণ।

একুশ মানে
এগিয়ে যাওয়া
ভাষা শহীদদের টানে,
একুশ মানে মাতৃভাষা
টিকিয়ে রাখব প্রাণে।

একুশ মানে
আমার মায়ের
হারিয়ে যাওয়া বুলি,
একুশ মানে
ছোট্ট শিশুর
আদৌ আদৌ বুলি।

একুশ মানে
জীবন দিয়ে রাখব বাজি
মাতৃভাষার সন্মান,
একুশ মানে
দেশের গৌরব
হতে দেব না ম্লান।

Sunday, February 5, 2017

একটি কৌতুহলময় স্মৃতিপট

২০০৩ সাল।তখন আমি ক্লাস থ্রি তে পড়ি,এরোপ্লেন সম্পর্কে বইয়ে অনেক পড়েছি এমনকি ওটার যন্ত্রাংশের নাম সমূহসহ।কিন্তু তখন পর্যন্ত বাস্তবে এরোপ্লেন দেখা শুধুমাত্র আকাশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।ভূমিবিষ্ট এরোপ্লেন দেখার সৌভাগ্য হয়নি।

সেবার ছিল জানুয়ারির প্রথম দিক,আমার বড় কাকু আমেরিকা(ইউএসএ) ফেরত হবে।বাবা কথা দিয়েছিল যদি আমি ক্লাসে ফার্স্ট হতে পারি তবে আমার বাবার সাথে কাকুকে রিসিভ করার জন্য বিমান বন্দরে যাওয়ার সুযোগ হবে।এইদিকে আমার রেজাল্ট পাব্লিশ হল, ফার্স্ট হতে না পারলেও সেকেন্ড হয়েছিলাম।যাইহোক বাবা নিজের কথা রাখলেন মানে, প্রথম বারের মত আমি এয়ারপোর্ট এ যাচ্ছি।আমি তো মহাখুশি এতদিন শুধুই বিমানকে আকাশপথে দেখে অবাক হতাম এখন একেবারে বন্দরে বিমান এর ল্যান্ডিং সরাসরি দেখতে পাব।সবকিছু মিলিয়ে আমার কৌতূহল আর উদ্দীপনা একেবারেই তুঙ্গে।এইদিকে বছরের প্রথম দিক হওয়ায় লেখাপড়ার কোন রকম চাপ ছিল না পুরোপুরিভাবে বলা যায় খোশ মেজাজে।

সব কিছু মিলিয়ে আমাকে আর পায় কে অবস্থা।
অবশেষে আজ ১৭ই জানুয়ারি ২০০৩ মানে আমার জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সকাল ৯ টার ভিতর ই আমরা শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে উপস্থিত হয়ে গেলাম।বন্দরে এসে আমার কৌতুহল এর কমতি ছিল না,আমি চারদিক ঘুরে ঘুরে অনেক কিছুই দেখেছি।রাডার,কিছু অপেক্ষমাণ হেলিকাপ্টার, ছোট বিমান, সব কিছু মিলিয়ে আমার জন্য ছিল সেটা অপূর্ব মূহুর্ত। টিকিট কেটে আমরা সবাই একেবারে ল্যান্ডিং ফিল্ড এ উপস্থিত হয়ে গেছি।(তখন টিকিট কেটে ওখান পর্যন্ত যাওয়া বৈধ ছিল)
৯:৩০ কি তার একটু পরেই আমি প্রচণ্ড শব্দ শুনে অবাক হলাম আর ভাবতে লাগলাম ভাগ্যিস এইগুলো আমাদের থেকে অনেক অনেক উঁচুতে উড়ে তা না হলে দুর্বিষহ অবস্থা হত।এসব ভাবতে ভাবতে বিমান রানওয়েতে চলে আসল,ওই মূহুর্তে তখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে আমি আসলেই বিজ্ঞানের অনেক কাছেই,প্রযুক্তি আমার চোখের সামনেই।

সবশেষে আরো কিছু মনে রাখার মূহুর্ত ব্যায় করার পর আমরা নিজ গন্তব্যে ফিরে আসি।ভাবতেই অবাক লাগে যেটা ছোট বেলার কৌতুহল ছিল এখন আমি, আমরা সেটা নিয়েই বিশ্লেষণ করে যাই প্রতিনিয়ত।

***ছোট বেলার কৌতুহলী জীবনথেকে সব কিছু নেওয়ার চেষ্টা করলেও সব উঠিয়ে আনা সম্ভব হয় নি।মেধা বিকশিত হয় আবার লোপ ও পায়।***

একটা স্বপ্ন দেখব বলে স্পন্সর খুঁজি রোজ....

স্বপ্ন আর বাস্তবতা আপাতপক্ষেই সম্ভব, বাস্তবিকতায় খুব একটা মিল নেই।
তবুও আমাকে /আপনাকে স্বপ্ন দেখতে নিষেধ করে কে?কেউ না!

সবাই স্বপ্ন দেখে আমিও দেখি কিন্তু স্বপ্নগুলো কেমন যেন গোলমেলে। মানে ঠিক কি নিয়ে স্বপ্ন দেখা হচ্ছে সেটাই বুঝি না,দেখার মাঝখানেই ঠং!
টপিক নির্ধারণ এর আগেই টপিক পাল্টানোর কথা এসে যায়।আহা! রঙিনত্ব আনা দরকার। কিন্তু সেই রঙিনত্ব আনার আগে আমাকে
যদি কেউ সাহায্য করতে পারত তবে তাকে বোধহয় মাথায় তুলে রাখতাম।

না ঠিক তা নাহ্! তবে কি? রঙিন স্বপ্ন ছাড়া কি জীবনে ঘুমের ঘোরে আর কিছু দেখার নেই?আছে, হ্যাঁ অবশ্যই।তবে সেটা ঘুমের ঘোরে হোক আর দিবা স্বপ্নই হোক অথবা বাস্তবতায়।
চলুন না আজ থেকেই স্বপ্ন দেখা শুরু করি ;না রঙিন দেখতে হবে না।জীবনকে উচ্ছাসিত করার স্বপ্ন, এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন,লক্ষ্য পূরণের স্বপ্ন।
তবে জয় হোক আরেকবার স্বপ্নের।
"জয়তুঃ স্বপ্ন"
"জয়তুঃ মানবজীবন"

পৃথিবীর নিচে আসলে কি আছে..?


পৃথিবীর নিচে আসলে কি আছে..?
অনেকে বলে পানি আছে, কেউ কেউ বলে আগুন আছে, আর সবাই বলে মাটি আছে..
আমি সবার সাথেই একমত, কিন্তু এগুলো থাকে কিভাবে?? আমরা যে এখন ভূমি পাইছি এটা তো লক্ষ বছর আগে এমন ছিলো নাহ!! বছরের পর বছর পরিবর্তনের ফলে আমরা একটা স্থির ভূত্বক পেয়েছি যেটাকে ক্রাস্ট(crust) বলে.. এটা ৭ থেকে ৪০, ৬০, ১০০ মাইল পর্যন্ত, মানে আমরা যদি মাটির নিচে ১০০ মাইল পর্যন্ত খুড়ি তাহলে মাটি, পাথর, বালি, ভাগ্য ভালো থাকলে খনি,কয়লা,স্বর্ণ এগুলোও পেতে পারি..
ক্রাস্টের নিচে আরেকটা স্তর আছে ম্যান্টল, যেটার ১৮০০ মাইল পর্যন্ত পুরুত্ব.. এটা না খুব পাজি, মাঝে মাঝে তার উপরে ভাসমান ক্রাস্টকে ভেংগে ফেলে.. ফলে শক্ত ক্রাস্ট আলাদা হয়ে যায়, মানে আমরা যেখানে দাড়াই সেটাই খুব শক্ত ক্রাস্টের বিচ্ছিন্ন স্তর, যেটাকে টেকটনিক প্লেট বলে.. মহাদেশগুলো এরকম টেকটনিক প্লেটের উপর অবস্থিত.. কোটি কোটি বছর ধরে এগুলো পৃথিবীর উপর এসে জমা হয়েছে.. এই প্লেটটাকেই আমরা মাটি মনে করি..
এখন আসবো আসল কথায়.. এই পৃথিবীর অভ্যন্তরে মাত্র ৩টা ভাগ আছে.. শিলা মন্ডল, গুরুমন্ডল আর কেন্দ্র মন্ডল..
শিলামন্ডল আসলে খুব ভালো, আমরা নিচের দিকে তাকালে যাই দেখি তাই শিলা(ইহা কিন্তু শিলা কি জাওয়ানি নহে).. আমরা হাতের থেকে যা কিছুই ফেলি না কেনো সবকিছুই শিলামন্ডলে গিয়ে পড়ে.. তাহলে কি হলো?? শিলামন্ডল হলো সেই অংশ যেটা পৃথিবীর সবচেয়ে উপরে থাকে.. মানে আমাদের কাছাকাছি থাকে.. ক্রাস্ট, টেকটনিক প্লেট সবই শিলার বাচ্চাকাচ্চা..
এরপরে আরেকটু গভীরে যাই.. শিলা আপুর পরের স্তরটা হচ্ছে গুরুমন্ডল.. গুরুমন্ডল একদম গুরুগম্ভীর, খুব রাগী সে.. সে সবার মাঝখানে থাকতে চায়, যাতে কেউ তাকে ধরতে না পারে.. তাই এই গুরুমন্ডল অলটাইম পৃথিবীর উপরে-নিচের দুটোস্তরের একদম মাঝখানে থাকে.. আবার এই গুরুগম্ভীর পন্ডিতের দুটো ছেলে আছে.. একটা নিফেসিমা (নিকেল, ফেরাস/
লোহা, সিলিকা & ম্যাগনেসিয়াম) আর আরেকটা ক্রোফেসিমা (ক্রোমিয়াম, ফেরাস, সিলিকা & ম্যাগনেসিয়াম)..
তারপর এই গুরুমন্ডলের পর, পৃথিবীর একদম নিচে, একদমই নিচে তার তো একটা কেন্দ্র থাকার কথা!! সেটাই হচ্ছে কেন্দ্রমন্ডল.. এই কেন্দ্রমন্ডলেরও দুটো পোলাপান আছে.. একটার নাম অগা(অন্ত:কেন্দ্
রমন্ডল) আরেকটার নাম বগা(বহি:কেন্দ্রমন্ডল).. অগা হচ্ছে সত্যি সত্যিই পৃথিবীর কেন্দ্রতে.. যাকে কখনোই আমরা নিজের চোখে দেখতে পারিনি, অনেক দূরে তো তাই.. এই অগা বেচারীর গায়ে অনেক জ্বর থাকে সবসময়, ৫১৫০ ডিগ্রী তাপ থাকে তার.. এটার ঘনত্ব পানি থেকে ১৩.৩-১৩.৬ গুন হয়..
এরপর আসছি বগার কথায়, ও অগার উপরেই থাকে, অর্থাৎ বগার থেকেই শুরু হয় কেন্দ্রমন্ডলের যাত্রা.. ওর গায়ে অগার থেকে কম জ্বর থাকে, মাত্র ৪০০০ ডিগ্রী.. আর ওর ঘনত্ব পানির ১০ গুন মাত্র..
জ্বর যেহেতু ছোয়াচে রোগ তাই আমাদের উচিত হবে না পৃথিবীর কেন্দ্রমন্ডলে গিয়ে নাচানাচি করা..

Sunday, December 18, 2016

ছোট লোক'এ রা'

আপনার অফিসে যে লোকটি ঝাড়ু দেন, যাকে দেখলেই আপনার মনে হতে থাকে, এমনিতেই একটা বকা দিয়ে দিলেও কী-ই বা হবে, নিজের বাসার কোনো রাগ কিংবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝাড়ার সবচাইতে নিরাপদ স্থানটি ভেবে যাকে মুখে যা-ই আসে, তা-ই বলে ফেলা যায় ভাবেন, কখনো কখনো গায়ে হাত তুলতে ইচ্ছে করলে যার গায়ে হাত তোলাটা নিজের অধিকারের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন, যার বাবা-মা তুলে গালাগালি করে নিজের অসুস্থ মানসিকতাটা সামনে নিয়ে এলেও কিচ্ছু হয় না, যিনি আপনার সব অন্যায় কথাগুলি শোনাকে উনার চাকরির একটা অংশ মনে করেন, যাকে তুইতোকারি করা যায় বিনা অস্বস্তিতেই, নিজের জুতোজোড়াও সরিয়ে রাখতে যাকে হাঁক দিয়ে বলেন জোরেই, যার অসহায়ত্ব দেখলে আপনার কদর্য পৌরুষ সুড়সুড়ি পেয়ে নাচতে থাকে, উনিও কিন্তু একটা পরিবারের সর্বময় কর্তা। আপনি স্রেফ একটা তুড়িতেই উনার চাকরিটা ‘খেয়ে ফেলতে’ পারেন বলে উনি আপনার সামনে নত হয়ে সব অবিচারগুলিকেও সহ্য করে। কণ্ঠস্বরটাও যথাসম্ভব নামিয়ে কথা বলেন, কারণ স্বাভাবিক কণ্ঠস্বরকে বেয়াদবি ভেবে বসে আপনি চাইলেই সবকিছু করতে পারেন। সে ভয়ে উনি হাসিমুখে বিনা বাক্যব্যয়ে যা-ই বলেন না কেন, মেনে নেন, এমনভাবেই, যেন মন থেকেই নিয়েছেন! এটা শ্রদ্ধা নয়, ভালোবাসা নয়, এটা স্রেফ ভয়। চুপ করে থাকা মানেই কিন্তু মন থেকে গ্রহণ করা নয়। প্রতিবাদের অনুপস্থিতি মানেই ন্যায্যতা নয়। শরীরের শক্তির নির্লজ্জ প্রকাশে মনের নাজুকতাই ফুটে ওঠে। এই পৃথিবীতে সবচাইতে দুর্বল চিত্তের মানুষগুলোকেই অন্যের গায়ে হাত তুলতে হয়। মানুষ যখন তার নিজের অবস্থানের অযোগ্য হয়, তখনই নিজের অবস্থানের সুযোগ গ্রহণ করে অন্যকে আঘাত করে। বড় অবস্থানের ছোটলোকমাত্রই ভয়ংকর!

আপনার অফিসের সেই ঝাড়ুদারের কথায় ফিরে যাই। সেই উনি যখন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন একটা সস্তা লজেন্স হাতে নিয়ে, উনার পুতুলের মতন আদুরে ছোট্ট মেয়েটি তখন খুশিতে উনার কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর উনার চুলগুলি সরিয়ে দেয়, কপালে, চোখে, গালে চুমু খায়, আর লজেন্সটা চুষতে চুষতে বলতে থাকে, “আব্বু, তুমি অনেক ভাল!” বাবার সেই মুহূর্তে মনে হতে থাকে, এর চাইতে দামি সার্টিফিকেট পৃথিবীর সেরা ভার্সিটিতেও মেলে না। সারাদিনে কী কী হল, ওকে কে কী কী বলেছে, বন্ধুদের সাথে কী কী খেলল, আম্মু কখন কখন বকা দিয়েছে, একে একে সব বলতে থাকে। উনার স্ত্রী তখন একটু দূর থেকে বাপবেটির এসব খুনসুটি দেখতে থাকেন আর মুচকি হেসে ভাবেন, “এর চাইতে সুন্দর দৃশ্য কে কবে কোথায় দেখেছে?” সবচাইতে দরিদ্র অবহেলিত মানুষটিও কোনো এক নারীর চোখে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ পুরুষ, কোনো একটি শিশুর বিশ্বাসে পৃথিবীর সেরা পিতা। সেই পুরুষটি এরপর স্ত্রীর খোঁপায় হয়তো পরিয়ে দেন দিনের শেষে সস্তায় বিক্রি-হওয়া একটা ফিকে হয়েওঠা গোলাপ। স্ত্রীর মুগ্ধতার কাছে ওটাই পৃথিবীর সবচাইতে দামি উপহার! 

Saturday, December 10, 2016

বর্ণিল স্বপ্ন

"বর্ণিল স্বপ্ন"
                        -আনন্দ মোহন     

প্রিয়তম বলতে চেয়েছি অনেকবার
কিন্তু দেখ লাজুকলতা টা,
      তার আচরণ বড়ই অদ্ভুত
নুয়ে থাকা যে তার অভ্যাস
আমার ও ইচ্ছে হয়,
ছুঁয়ে দেখি তোমায়
হাতে হাত রেখে ছুটির দিনগুলো কাটাবো,
      তোমার সাথে।

তোমার কাছে যাবো,তোমার পিঠে পিঠ
      ঠেকাবো
নাকে আঙুলের আলতো স্পর্শ দিব
সেটা আর হয়ে উঠে না,
লাজুকতা যে ঢেকে রেখেছে ইচ্ছেপনা
তবুও আমি আশা রাখি,
পুনঃস্মরিব তোমায়।
একদিন বলব তোমায়, দেখ আমিও পেরেছি
ইচ্ছে শক্তিকে আমি বাহুবন্ধ করেছি,
তোমাকে বর্ণিলতার অন্তরালে
     কাছে এনেছি।

Friday, September 30, 2016

স্বপ্ন বনাম মৃত্যু পূর্বাভাষ

প্রচলিত
রয়েছে যে, স্বপ্নে অনেক সময়ে আভাসিত হয়
আসন্ন মৃত্যুর পূর্বাভাসও।

বাস্তবে এই জাতীয় ঘটনার নজির রয়েছে।
আব্রাহাম লিঙ্কন তার মৃত্যুর কয়েক দিন আগে
স্বপ্নে নিজেকে কফিনে শায়িত থাকতে
দেখেছিলেন।

জুলিয়াস সিজার বা
ক্যালিগুলাও তাদের আসন্ন মৃত্যুর প্রতীকী
আভাস পেয়েছিলেন তাদের স্বপ্নে।

অলৌকিকতা নিয়ে
যারা চর্চা করেন, তারা বলছেন, কোনও ব্যক্তির
আসন্ন মৃত্যুর পূর্বলক্ষণ যেমন তার দেহে বা মনে
ধরা পড়ে তেমনই ধরা পড়ে স্বপ্নেও।

আসুন, জেনে নেই কিভাবে স্বপ্নে নিহিত
বিশেষ কিছু প্রতীক আপনার মৃত্যুর পূর্বাভাস
জানিয়ে দেয়।

"কালো বিড়াল"

কালো জাদু বা ডাইনি বিদ্যার চর্চা করেন
যারা তাদের কাছে কালো বিড়াল বিশেষ
তাৎপর্যবাহী। তারা মনে করেন, স্বপ্নে কালো
বিড়াল
দেখার অর্থ কোনও ঘোরতর অমঙ্গল ঘটতে
চলেছে জীবনে। এমনকী মৃত্যুও সেই অমঙ্গলের
সীমানাভুক্ত হতে পারে।

"সাপ"

স্বপ্নে সাপ-দর্শন পৃথিবীর বহু সংস্কৃতিতেই
অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা হয়। স্বপ্নে দৃষ্ট সাপ
আসন্ন মৃত্যুর প্রতীক, এমনটাই বিশ্বাস।

"দাঁত পড়ে যাওয়া"

অনেকের মতে স্বপ্নে দাঁত পড়ে যেতে দেখা,
কোনও নিকটজনের আসন্ন মৃত্যুর দ্যোতক।

"দাঁড়কাক"

দাঁড়কাক বা অন্য কোনও কালো পাখি যদি
স্বপ্নে আবির্ভূত হয়, তাহলে তা নিকটাগত মৃত্যুর
লক্ষণ বলে ধরতে হবে।

"ক্রন্দনরত শিশুর পরিচর্যা"

যদি স্বপ্নে কোনও ক্রন্দনরত শিশুর পরিচর্যা
করতে দেখা যায় নিজেকে, তাহলে তা নিজের
অথবা কোনও নিকটজনের মৃত্যুর পূর্বাভাস
বলে ধরতে হবে।

"কোনও ডুবন্ত ব্যক্তিকে বাঁচানো"

বলা হয়, স্বপ্নে কোনও ব্যক্তিকে নিশ্চিৎ মৃত্যুর
হাত থেকে বাঁচালে জলের অশুভ শক্তির ক্রোধ
গিয়ে পড়ে রক্ষাকারী ব্যক্তির উপর। ফলে
এবার তারা সেই ব্যক্তিকেই মৃত্যুর দিকে টেনে
নেয়।

"একা একা মদ্যপান"

কোনও ব্যক্তি যদি স্বপ্নে দেখে যে, সে কোনও
শ্মশান বা কবরস্থানে কিংবা কোনও
পাহাড়চূড়ায় একা বসে মদ্যপান করছে, তাহলে
আদপে তার মৃত্যু তার ঘাড়ের উপর নিঃশ্বাস
ফেলছে।

"নাচ-গানে উচ্ছল আনন্দোৎসব"

কেউ যদি স্বপ্নে নিজেকে নাচে-গানে উচ্ছল
কোনও উৎসবে অংশগ্রহণ করতে দেখে, তাহলে
শিগগিরই সেই ব্যক্তি খুন হবে বলে মনে
করা হয়।

-থ্যসূত্র :
বিভিন্ন স্বপ্ন    বিশারদ

Thursday, September 29, 2016

টাকা ও সময়

আচ্ছা আপনি কি জানেন,আজকাল সময়কে ও টাকা দিয়ে কেনা যায়?
ইয়েস,হয়ত জেনে থাকবেন।
তারপর ও আমি না হয় সময় কিনে নেওয়ার একটা ছোট্ট উদাহরণ দিই:
ধরুন, আপনি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাবেন বাসে করে।কিন্তু বাসে করে ঢাকা যেতে তো মিনিমাম চার ঘন্টা লাগবেই লাগবে।এত সময় আপনি খোয়াতে পারবেন না মানে,আপনার কাছে তখন সময়ের যথেষ্ট মূল্য।তো তখন যদি আপনি, আকাশপথে মানে হেলিকপ্টার বা বিমান যোগে একেবারে স্বল্প সময়ে পৌঁছে যেতে পারেন ব্যপারটা যেমন রোমাঞ্চকর হবে তেমনি আপনার সময়ও একেবারেই সেভ হবে।
এখন দেখলেন তো, টাকার কাছে সময়ও হার মেনে নিল।টাকা দিয়ে সময় কিনে নিলেন।
★★★বিশেষ দ্রষ্টব্য : সবকিছু টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এটা কিঞ্চিৎ রম্য উদাহরণ মাত্র।★★★



-Ananda Mohan
USTC;EEE
         

Monday, September 26, 2016

পবিত্র পাপ

পবিত্র পাপ
               -আনন্দ মোহন
তোমারে ছুঁইব বলে নিয়েছি অনুমতি,
অনুমতি পেয়ে আমি
পরক্ষণে স্পর্শ করিলাম তোমার হাত।
ইচ্ছে করেছিল বাহুডোরে বাঁধি তোমারে
সেটার ও অনুমতি পেয়ে আমি
আরো গভীরে যাই তোমার।
তোমারি কামনার মায়াজালে
আস্তে আস্তে আষ্টেপৃষ্ঠে,
গাড়  করি তোমার শ্বাসপ্রশ্বাস।
মৃদুচুম্বনে আবদ্ধ করি তোমায় বাহুডোরে
হন্য হয়ে আমি মিটিয়ে নিই আমার
ক্ষুদার্ততার মিষ্ট স্বাধ,
এভাবে চলে তোমার আমার দিনকাল।

"তুমিময় জীবন "

আনন্দ মোহন

যেদিন দেখেছি তোমায়
ভেবেছিলাম তুমি বুঝি রুপেরি রাণী
তোমার লাস্যময়ী হাসি
ছুঁয়েছিল আমার হৃদয় বরংবার
তোমার খোলা চুল
আমায় অবাধ্য করেছিল বারবার
চাইতাম শুধু সেগুলো ছুঁয়ে দেখিব একবার।

এভাবে কেটে যায় কত সহস্র প্রহর,
একদিন রাত্রিতে দেখি
আমার রাজ্যে তুমি সেই রাত্রিচরী
হয়ে এসেছ আমার জীবন ভরে দিতে।

বুঝিলাম সে-রাত্রিতে আমি,
তুমিই আমার সেই স্বপ্নচারিণী।
এসেছ রংধনুর সাতরং হয়ে,
আজীবন রংধনুর পূর্ণতা দান করিতে।

Saturday, September 24, 2016

মনের সাথে দেহ দিলে

-মোহন

মনের সাথে দেহ দিলে
থাকল কি আর বাকি
উজাড় হয়ে শুন্যপানে
কাঁদছো কারে ডাকি?

দেনা পাওনার হিসাব নিকাস
করলে না তো আগে
বেলা শেষে শুন্য হয়ে 
মরছো মিছাই রাগে।

আবেগ থেকে জীবনটাকে
বিলিয়ে দেয়ার পর
লাভ হবে না পরবর্তীতে
কাঁদলে জীবন ভর।

কাঁদতে কাঁদতে জীবন যাবে
পাবে না আর কিছু
হিসাব ছাড়া জীবন যাদের
দুখ ছাড়ে না পিছু।

Wednesday, September 21, 2016

স্বামীজীর বিশ্বধর্ম মহাসভা এবং আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে বক্তৃতাদান

স্বামীজীর বিশ্বধর্ম মহাসভা এবং আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে বক্তৃতাদান
ধর্মসভা মঞ্চে স্বামী বিবেকানন্দ
ধর্মসভা ১৮৯৩ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর শিকাগোর আর্ট ইনস্টিটিউটে উদ্বোধন হয়। এ দিন বিবেকানন্দ তাঁর প্রথম সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। তিনি ভারত এবং হিন্দু ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করেন।[৭৫] প্রথমদিকে বিচলিত থাকলেও তিনি বিদ্যার দেবী সরস্বতীর নিকট মাথা নোয়ালেন এবং তার বক্তৃতা শুরু করলেন এভাবে, “আমেরিকার ভ্রাতা ও ভগিনীগণ!”[৭৩][৭৬] তাঁর এ সম্ভাষণে প্রায় সাত হাজারের মত দর্শক-শ্রোতা দুই মিনিট দাঁড়িয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানান। নীরবতা ফিরে আসার পর তিনি তার বক্তৃতা শুরু করলেন। “যে ধর্ম বিশ্বকে সহিষ্ণুতা ও মহাজাগতিক গ্রহণযোগ্যতা শিখিয়েছে সে ধর্মের সর্বাধিক প্রাচীন সন্ন্যাসীদের বৈদিক ক্রমানুসারে” তিনি জাতিসমূহের কনিষ্ঠতমকে অভিবাদন জানালেন।[৭৭] এবং তিনি গীতা থেকে এ সম্পর্কে দুটি উদাহরণমূলক পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন-“যেহেতু বিভিন্ন স্রোতধারাগুলির উৎসসমূহ বিভিন্ন জায়গায় থাকে, সেগুলির সবই সমুদ্রের জলে গিয়ে মিশে যায়, সুতরাং, হে প্রভু, বিভিন্ন প্রবণতার মধ্য দিয়ে মানুষ বিভিন্ন যে সকল পথে চলে, সেগুলো বিভিন্ন রকম বাঁকা বা সোজা মনে হলেও, সেগুলি প্রভুর দিকে ধাবিত হয়!” এবং “যে আকারের মধ্য দিয়েই হোক না কেন, যেই আমার নিকট আসে, আমি তাঁর নিকট পৌঁছাই; সকল মানুষই বিভিন্ন পথে চেষ্টা করছে যা অবশেষে আমার নিকট পৌঁছায়।”[৭৭] সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা হওয়া সত্ত্বেও এটি সভার আত্মা এবং এর বিশ্বজনীন চেতনা ধ্বনিত করে।[৭৭][৭৮]
সভার সভাপতি, ডঃ ব্যারোজ বলেন, “কমলা-সন্ন্যাসী স্বামী বিবেকানন্দ ধর্মসমূহের মাতা ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং তাঁর শ্রোতাদের উপর সবচাইতে বিস্ময়কর প্রভাব বিস্তার করেছেন।”[৭৬] প্রেসে তিনি প্রচুর মনোযোগ আকর্ষণ করেন যাতে তিনি “ভারতের সাইক্লোন সন্ন্যাসী” হিসেবে অভিহিত হন। নিউ ইয়র্ক ক্রিটিক লিখেছিল, “ঐশ্বরিক অধিকারবলে তিনি একজন বক্তা এবং হলুদ ও কমলার চিত্রবৎ আধানে তাঁর শক্তিশালী, বুদ্ধিদীপ্ত চেহারার চেয়ে কম আগ্রহোদ্দীপক ছিল না ঐ সকল সমৃদ্ধ ও ছন্দোময়ভাবে উচ্চারিত শব্দসমূহ। নিউইয়র্ক হেরাল্ড লিখেছিল, “বিবেকানন্দ নিঃসন্দেহে ধর্মসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তাঁর বক্তৃতা শুনে আমরা অনুভব করি এ শিক্ষিত জাতির নিকট মিশনারি পাঠানো কি পরিমাণ বোকামি।”[৭৯] আমেরিকার পত্রিকাসমূহ স্বামী বিবেকানন্দকে “ধর্মসভার সবচেয়ে মহান ব্যক্তিত্ব” এবং “সভার সবচেয়ে জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ব্যক্তি” হিসেবে প্রতিবেদন লেখে।[৮০]
তিনি সভায় আরো অনেকবার হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্ম সম্পর্কিত বিষয়ে বলেন। সভা ১৮৯৩ সালের ২৭শে সেপ্টেম্বর সমাপ্ত হয়। সভায় তাঁর সকল বক্তৃতার একটি সাধারন বিষয়বস্ত্তু ছিল – সর্বজনীনতা – অধিক গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সহিষ্ণুতা।[৮১]
আমেরিকা ও ইংল্যান্ডে বক্তৃতাদান:
শিকাগো আর্ট ইনস্টিটিউটে ১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে ধর্মসভা শেষ হবার পর বিবেকানন্দ পুরো দুই বছর পূর্ব ও কেন্দ্রীয় যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে শিকাগো, ডেট্রয়েট, বোস্টন এবং নিউইয়র্কে বক্তৃতা দেন। ১৮৯৫ সালের বসন্তকালের মধ্যে তাঁর অব্যাহত প্রচেষ্টার কারণে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং তাঁর স্বাস্থ্য হয়ে পড়ে দুর্বল।[৮২] তাঁর বক্তৃতাদান সফর স্থগিত করার পর স্বামীজি বেদান্ত ও যোগের উপর বিনা মূল্যে ব্যক্তি পর্যায়ে শিক্ষা দেয়া শুরু করেন। ১৮৯৫ সালের জুন থেকে দুই মাসব্যপী তিনি থাউজ্যান্ড আইল্যান্ড পার্কে তাঁর এক ডজন শিষ্যকে ব্যক্তি পর্যায়ে শিক্ষা দেয়ার জন্য ভাষণ দেন। বিবেকানন্দ এটিকে আমেরিকায় তাঁর প্রথম ভ্রমণের সবচেয়ে সুখী অংশ বলে বিবেচনা করতেন। তিনি পরে “নিউইয়র্ক বেদান্ত সোসাইটি” প্রতিষ্ঠা করেন।[৮২]
আমেরিকায় তাঁর প্রথম পরিদর্শনের সময় তিনি ইংল্যান্ডে ভ্রমণ করেন দুইবার – ১৮৯৫ এবং ১৮৯৬ সালে। সেখানে তাঁর বক্তৃতাসমূহ সফল ছিল।[৮৩] এখানে তিনি সাক্ষাৎ পান এক আইরিশ মহিলা মিস মার্গারেট নোবলের যিনি পরে সিস্টার নিবেদিতা নামে পরিচিত হন।[৮২] ১৮৯৬ সালের মে মাসে তাঁর দ্বিতীয় ভ্রমণের সময় পিমলিকোতে এক গৃহে অবস্থানকালে স্বামীজি দেখা পান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিখ্যাত ভারত বিশেষজ্ঞ ম্যাক্স মুলারের যিনি পাশ্চাত্যে রামকৃষ্ণের প্রথম আত্মজীবনী লেখেন।[৭৮] ইংল্যান্ড থেকে তিনি অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশেও ভ্রমণ করেন। জার্মানীতে তিনি আরেক ভারত বিশেষজ্ঞ পল ডিউসেনের সাথে সাক্ষাৎ করেন।[৮৪]
তিনি দুটি শিক্ষায়তনিক প্রস্তাবও পান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাচ্য দর্শনের চেয়ার এবং কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়েও একই ধরণের প্রস্তাব। তিনি উভয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এই বলে যে পরিভ্রমণকারী সন্ন্যাসী হিসেবে তিনি এই ধরণের কাজে স্থিত হতে পারবেন না।[৮২]
তিনি কতিপয় অকৃত্রিম শিষ্যকে আকৃষ্ট করেন। তাঁর অন্যান্য শিষ্যদের মধ্যে ছিল জোসেফিন ম্যাকলিয়ড, মিস মুলার, মিস নোবল, ই.টি.স্টার্ডি, ক্যাপটেন এবং মিসেস সেভিয়ের-যারা অদ্বৈত আশ্রম প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জে জে গুডউইন-যিনি তাঁর স্টেনোগ্রাফার হন এবং তাঁর শিক্ষা ও বক্তৃতাসমূহ রেকর্ড করেন।[৮২][৮৪] হেল ফ্যামিলি আমেরিকাতে তাঁর উষ্ণতম আতিথ্যকর্তাদের অন্যতম ছিলেন।[৮৫] তাঁর শিষ্যগণ-ফ্রেঞ্চ মহিলা ম্যাডাম লুই হন স্বামী অভয়ানন্দ এবং মিস্টার লিয়ন ল্যান্ডসবার্গ হন স্বামী কৃপানন্দ। তিনি কতিপয় অন্যান্য শিষ্যকে ব্রহ্মচারীতে দীক্ষা দেন।[৮৬]
স্বামী বিবেকানন্দের ধারণাসমূহ বেশ কয়েকজন পন্ডিত ও বিখ্যাত চিন্তাবিদ কর্তৃক প্রশংসিত হয়-উইলিয়াম জেমস, জোসেফ রয়েস, সি.সি. এভারেট, হার্ভার্ড ধর্মশাস্ত্র বিদ্যালয়ের ডিন, রবার্ট জি ইনগারসোল, নিকোলা টেসলা, লর্ড কেলভিন এবং অধ্যাপক হারম্যান লুডউইক ফারডিন্যান্ড ভন হেলমহোলটজ।[৮] অন্যান্য ব্যক্তিত্ব যারা তাঁর কথাবার্তায় আকৃষ্ট হন তারা হলেন হ্যারিয়েট মনরো এবং এলা হুইলার উইলকক্স-দুজন বিখ্যাত আমেরিকান কবি, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম জেমস; ব্রুকলিন এথিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডক্টর লুইজ জি জেনস; নরওয়ের পিয়ানোবাদক ওলে বুলের স্ত্রী সারা সি বুল; ফ্রান্সের অভিনেত্রী সারাহ বার্ণহারট এবং ফ্রান্সের অপেরা সঙ্গীতশিল্পী ম্যাডাম এমা ক্যালভি।[৮৭]
পশ্চিম থেকেও তিনি তাঁর ভারতীয় কাজে গতি আনেন। বিবেকানন্দ ভারতে অবস্থানরত তাঁর অনুসারী ও সন্ন্যাসী ভাইদের উপদেশ দিয়ে এবং অর্থ পাঠিয়ে বিরামহীনভাবে চিঠি লেখেন। পাশ্চাত্য থেকে পাঠানো তাঁর চিঠিসমূহ সে দিনগুলিতে সামাজিক কাজের জন্য তাঁর প্রচারাভিযানের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছিল।[৮৮] তিনি ভারতে তাঁর নিকট শিষ্যদের বড় কিছু করার জন্য অনুপ্রাণিত করতে চেষ্টা ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যান। তাদের নিকট পাঠানো তাঁর চিঠিসমূহে তাঁর সবচেয়ে কঠিন কিছু শব্দ ছিল।[৮৯] এ রকম একটি চিঠিতে তিনি স্বামী অক্ষরানন্দকে লিখেছিলেন, “খেতরী শহরের দরিদ্র ও নিচু শ্রেণীর ঘরে ঘরে যাও এবং তাদের ধর্মশিক্ষা দাও। ভূগোল এবং অন্যান্য বিষয়েও তাদের মৌখিক শিক্ষা দিও। অলসভাবে বসে থেকে, রাজকীয় খাবার খেয়ে আর “রামকৃষ্ণ, ও প্রভু!” বলে ভাল কিছু হবে না-যদি না তুমি দরিদ্রদের জন্য ভাল কিছু করতে পার।”[৯০][৯১] পরিণামস্বরুপ ১৮৯৫ সালে বেদান্ত শিক্ষার উদ্দেশ্যে বিবেকানন্দের সরবরাহকৃত অর্থে মাদ্রাজে “ব্রহ্মাবদীন” নামে এক সাময়িকপত্র প্রকাশ করা শুরু হয়েছিল।[৯২] পরবর্তীকালে (১৮৮৯) “ব্রহ্মাবদীনে” “দি ইমিটেশন অফ ক্রাইস্ট” এর প্রথম ছয় অধ্যায়ের বিবেকানন্দকৃত অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।[৯৩]
বিবেকানন্দ তাঁর শিষ্য ক্যাপ্টেন এবং মিসেস সেভিয়ের ও জে জে গুডউইনকে নিয়ে ১৮৯৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ইংল্যান্ড ছেড়ে ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। পথিমধ্যে তারা ফ্রান্স ও ইটালী ভ্রমণ করেন এবং লিওনার্ডো ডা ভিঞ্চির দি লাস্ট সাপার দর্শন করে ১৮৯৬ সালের ৩০শে ডিসেম্বর ভারতের উদ্দেশ্যে ন্যাপলস বন্দর ত্যাগ করেন।[৯৪] পরবর্তীতে মিস মুলার এবং সিস্টার নিবেদিতা ভারতে তাঁকে অনুসরণ করেন। সিস্টার নিবেদিতা তার বাকী জীবন ভারতীয় নারীদের শিক্ষায় এবং ভারতের স্বাধীনতা অর্জনে নিয়োজিত করেন।[৮২][৯৫]